দ্রুততর সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের মাসিক পেনশন প্রদান

37

image001উদ্ভাবনী পাইলট উদ্যোগের শিরোনামঃ দ্রুততর সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের মাসিক পেনশন প্রদান।
বাস্তবায়ন এলাকাঃ উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস, বাসাইল, টাঙ্গাইল।
বাস্তবায়নকারীঃ জনাব মন্তোষ চন্দ্র, প্রাক্তন উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, বাসাইল টাঙ্গাইল। বর্তমানে উপ প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা।
পাইলট আইডিয়া শুরুর তারিখঃ ২২ শে জুন ২০১৪ খ্রি.
সুবিধাভোগীর ধরণঃ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী প্রবীণ পেনশনারগণ, পারিবারিক পেনশনারগণ এবং তাঁদের পরিবার।
সুবিধাভোগীর সংখ্যাঃ প্রায় ৭০০ জন।
আইডিয়া বাস্তবায়নে ব্যয়ঃ প্রায় ২,০০,০০০ (দুই লাখ)  টাকা
আইডিয়া বাস্তবায়নে ব্যয় ও উৎসঃ নিজ কার্যালয়ের প্রাপ্ত বরাদ্দ ও উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল।
মূল সমস্যা ও সমস্যার প্রভাবঃ মাসের প্রথম ১০ কর্মদিবসে সকল পেনশনার টাকা তুলতে আসেন। এতে অফিস ষ্টাফদের উপর কাজের চাপ সৃষ্টি হয়। পেনশনারদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তাছাড়া প্রবীণ সুবিধাভোগীরা সুপেয় পানি, টয়লেটসহ বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এতে প্রবীণ পেনশনারদের মাসিক পেনশন তুলতে এসে অনেক সময় অপেক্ষা করে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তারা শারিরিক, মানুষিক এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। অনেকের পেনশন তুলতে দ্বিতীয়বার আসতে হয়। যাতায়াত বৃদ্ধি পায়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সমস্যার মূল কারণঃ  মূল কারণ অনুসন্ধান করে দেখা যায়, একজন কর্মী পেনশন সংশ্লিষ্ট সকল কাজ করেন। একটি পেনশন রেজিষ্টার ও একটি এডভাইসের মাধ্যমে সকল মন্ত্রণালয়ের পেনশন প্রদান করা হয়। ফলে নির্ধারিত তারিখে সবাইকে পেনশন প্রদান কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও অপেক্ষমান পেনশনারদের বসার কোন ব্যবস্থা নেই। প্রবীণরা অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।
সমাধানে গৃহীত উদ্যোগঃ এসব সমস্যা সমাধানে তিনি অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মন্ত্রণালয় ভিত্তিক ৩টি পৃথক পেনশন রেজিষ্টার তৈরী করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি পেনশন রেজিষ্টার তৈরী করা হয়। মন্ত্রণালয় ভিত্তিক ৩টি পৃথক এ্যাডভাইস দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি পেনশন এ্যাডভাইস দেয়া হয়। তিন জন কর্মীর মধ্যে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক পেনশন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন কর্মীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ফলে স্বল্প সময়েই পেনশন দেয়া নিশ্চিত হয়। এছাড়াও তিনি অপেক্ষমান পেনশনাদের জন্য বসার ব্যবস্থা করেন। এজন্য ৫০ টি চেয়ার, ৪টি বেঞ্চের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অপেক্ষমাণ সেবা গ্রহীতারা যাতে বিশুদ্ধ খাবার পানি পান সেজন্য ২টি পানির ফিলটার ও প্রয়োজনীয়  গ্লাসের ব্যবস্থা করেন। প্রবীণ সেবাপ্রার্থী পেনশনারদের জন্য চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য একজন চিকিৎসককে পেনশন প্রদানের সময়ে উপস্থিত রাখার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পত্র দেন। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একজন চিকিৎসককে নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। এভাবে প্রবীণ সেবাগ্রহীথাদের প্রেসার মাপা, ডায়াবেটিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। অপেক্ষমান পেনশনারদের জন্য স্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। image003
ফলাফলঃ দেখা গেছে, এসব উদ্যোগ গ্রহণের ফলে একজন কর্মীর মাসিক প্রায় ১১৭ ঘন্টা কাজের সময় হ্রাস পায়। ৭০০ জন পেনশনারের সর্বমোট ২৮০০ ঘন্টা সময় হ্রাস পায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবীণ পেনশনারদের অল্প সময়ে পেনশন প্রদানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।

প্রত্যাশিত ফলাফল (TCV):
সময় খরচ যাতায়াত
আইডিয়া বাস্তবায়নের পূর্বে ৬ ঘন্টা থেকে ২ দিন ১০০-২০০ টাকা ২ বার
আইডিয়া বাস্তবায়নের পরে ১-২ ঘন্টা ৫০ টাকা ১ বার
মোট পার্থক্য ৪ ঘন্টা- ১ দিন ৪ ঘন্টা ১৫০ টাকা ১ বার

শিক্ষণীয় দিকসমূহঃ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বেশ কিছু শিক্ষণীয় দিক পরিলক্ষিত হয়েছে।  বড় কোন বিনিয়োগ ছাড়াই যে একটি সাধারণ ও ছোট উদ্যোগও সেবার মান বৃদ্ধি করতে পারে তা এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আন্তরিকতা ইতিবাচক মনোভাব যেকোন উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি।
সেবাগ্রহীতাদের জায়গায় দাড়িয়ে তাদের সমস্যা হৃদয়ে স্থান দিয়ে সমস্যা সমাধানের চিন্তা করলে যে কোন জটিল সমস্যাও সমাধান করা যায়। সংশ্লিষ্ট জন প্রতিনিধি, অন্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক থাকলে এবং আন্তরিকতার সংগে কাজ করলে যে কোন মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
প্রকল্পের আইডিয়াটি হিসাব মহানিয়ন্ত্রক ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর তারিখের পত্রের মাধ্যমে সারাদেশে বস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। এছাড়াও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই পেনশনারদের জন্য সেবামূলক আইডিয়াটি বিগত ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তারিখে প্রচার করেছে।