ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ

60

image001উদ্ভাবনী পাইলট উদ্যোগের শিরোনামঃ ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ
বাস্তবায়ন এলাকাঃ বাকিলা ইউনিয়ন, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর এর তিনটি মৌজা যাথাক্রমে-ফুলচোয়া, গোগরা, বাখরপাড়া
বাস্তবায়নকারীঃ মোঃ ওলিউজ্জামান, প্রাক্তন সহকারী কমিশনার (ভূমি), হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।
পাইলট আইডিয়া শুরুর তারিখঃ আগস্ট ২০১৫
সুবিধাভোগীর ধরণঃ ভূমি মালিকগণ ;
সুবিধাভোগীর সংখ্যাঃ  ৩২৭ জন ভূমি মালিক।
আইডিয়া বাস্তবায়নে ব্যয়ঃ ৭৫,০০০/=
আইডিয়া বাস্তবায়নে উৎসঃ নিজস্ব অফিস বরাদ্দ
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলা অত্যন্ত সুপরিচিত জনপদ। প্রাচীন কাল থেকেই এই জনপদটি বিখ্যাত ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। অথচ এই উপজেলার ভূমি উন্নয়ন কর সঠিকভাবে নির্ধারণ ও আদায় করা সম্ভব হয়না। ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত সেবা পেতে জনগণকে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের পর বিষয়টির সমাধান নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মোঃ ওলিউজ্জামান। এসময়  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর এটুআই প্রোগ্রামের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত “নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন” শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। কর্মশালায় তিনি “ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ” শিরোনামে একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রথমেই তিনি উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে- ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের কাজের জন্য কোন ধরণের প্রণোদনার ব্যবস্থা নাই। ভূমি মালিকদের মাঝে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের বিষয়ে সচেতনতার অভাব অত্যন্ত বেশী। ভূমি মালিকরা জমি জমা বিষয়ে বুঝতে পারেন না। এজন্য বিষয়টিকে অবেহলা করেন। এছাড়াও সবসময় সেবাদান প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পাওয়া যায়না। গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে যথাসময়ে তাদেরকে অবহিত করা হয়না। অন্যদিকে সঠিকভাবে কর নির্ধারণ না করা, হোল্ডিং অনুযায়ী ভূমি মালিকদের কোন ডাটাবেইজ না থাকা, ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাব, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারীদের মাঝে স্বচ্ছতার অভাব ও দূর্নীতির প্রবণতা এবং দালাল/মধ্যস্ততাকারীদের উপস্থিতি বিদ্যমান। এসব কারণে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সার্বিক ভূমি ব্যবস্থাপনা বাঁধার সম্মুখীন হয় এবং সরকারি সেবা প্রদান ব্যবস্থার উপর জনগণের অসন্তুষ্টি তৈরী হয়।
এসব সমস্যা সমাধানে তিনি বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেন। একটি তহশীল নির্ধারণ করে হোল্ডিং অনুযায়ী ভূমি মালিকদের তথ্যসহ ডাটা বেইজ প্রস্তুত করা হয়। ডাটা বেইজ অনুযায়ী সঠিকভাবে রিটার্ন III প্রস্তুত করে নির্ধারিত কর ভূমি মালিকদের অবহিতকরণের লক্ষ্যে প্রচারণা / প্রদর্শন এর ব্যবস্থা করা হয়। দাবী নির্ধারণ করে মালিকানা প্রমাণের কাগজপত্রের বিবরণসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক স্বাক্ষরিত ভূমি উন্নয়ন করের বিল প্রদান এবং  পাশ বই প্রদান করা হয়। এছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর প্রচারণার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও নিজস্ব উদ্যোগে www.hajiganj.acland.gov.bd নামে একটি ওয়েব সাইট  ও অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হয়।  এতে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য / ডাটাবেইজে  সংযোজনের মাধ্যমে “অনলাইনে খাজনা দিন” অপশন রাখা হয়েছে। এটি ব্যবহার করে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ জানতে ও নির্ধারিত ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান সম্ভব হবে। সংগৃহিত তথ্যের আলোকে প্রস্তুতকৃত রিটার্ন III নিজস্ব ওয়েব সাইট এ প্রকাশ করা হয়। যার মাধ্যমে ভূমি মালিকরা তাদের নির্ধারিত ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ যে কোন জায়গা থেকে জানতে পারেন।
ফলাফলঃ এই আইডিয়া বাস্তবায়নের ফলে পূর্বের চেয়ে সময়, খরচ ও যাতায়াত কমেছে। দালাল/ মধ্যস্বত্ত্বভোগী শ্রেণির সুযোগ image003গ্রহণ বন্ধ হয়েছে। ফলে সেবা গ্রহীতার হয়রানি ও দুর্ভোগ হ্রাস পেয়েছে। সেইসাথে কর্মশক্তির অপচয় রোধ হয়েছে। ইতোপূর্বে ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ সঠিকভাবে না হওয়ায় ভূমি মালিকদের ভোগান্তি ছিল। তবে এই আইডিয়া অনুযায়ী শুরুতেই ডাটাবেইজ অনুযায়ী রিটার্ন III প্রস্তুত করায় ভোগান্তি কমেছে। ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন এসেছে। জনগণের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হার বেড়েছে।
চ্যালেঞ্জঃ “ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ” প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরণের চ্যালেঞ্জ দেখা গিয়েছিল। টিমের সদস্যদের অসহযোগিতা ও মানসিকতার পরিবর্তন আনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেবা প্রত্যাশীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইডিয়া বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান। এছাড়া অফিসের কাজের বাইরে পারিবারিক সময় এর বাইরে এই প্রকল্পের জন্য সময় বের করতে হয়েছে। সর্বোপরি সেবা গ্রহিতার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি সমস্যার সমাধান বের করাটাও ছিল একটি চ্যালেঞ্জ।
উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষণীয় দিক পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি সাশ্রয়ী একটি প্রকল্প। খুব সহজে এটি বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব।