বিদেশে বসেই এখন সরকারি ফাইলে স্বাক্ষর করছেন প্রধানমন্ত্রী

241

image

ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে। দেশের বাইরে থেকে ই-স্বাক্ষরের মাধ্যমে জরুরি ফাইল অনুমোদন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের বাইরে গেলেও এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তাঁর সঙ্গেই থাকছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এখন আর কোনো কাজেই ব্যাঘাত ঘটছে না। অনুমোদর-স্বাক্ষর-সব কিছুই হচ্ছে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

ই-ফাইল পদ্ধতি হল ফাইল নিষ্পত্তির একটি আধুনিক সিস্টেম বা পদ্ধতি। যেখানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। এই সিস্টেমে প্রত্যেকের জন্য একটি ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড থাকে। আর স্বাক্ষরের জন্য থাকে নিজস্ব একটি কোড। কাউকে ফাইল পাঠাতে হলে তার ইউজার আইডিতে তা পাঠানো হয়। তিনি সিস্টেমে ঢুকে সে ফাইলে কাজ করতে পারেন। তাতে সময় এবং লোকবল সাশ্রয় হয়। কেননা ম্যানুয়াল সিস্টেমে কারও কাছে ফাইল পাঠাতে হলে কোনো ব্যক্তি বা ডাক মারফত পাঠাতে হয়। আর কেউ সশরীরে উপস্থিত না থাকলে ফাইল পড়ে থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে কোনো স্থান থেকে ফাইল নিষ্পত্তি কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়।

প্রয়োজন হয় শুধু একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগ। চাইলে মোবাইলেও কাজ করা যায়।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মতো এ ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ই-ফাইল সিস্টেমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সেগুলো দেখে তার নিজস্ব কোডের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তি করছেন। এভাবে ফাইল নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই (একসেস টু ইনফর্মেশন) প্রকল্প।

এ সিস্টেমে স্বাভাবিক ফাইলের মতোই ই-ফাইলেও সব কাগজপত্র, তথ্য-প্রমাণাদি এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সরবরাহ করা হয়। যারা ই-ফাইলে কাজ করবেন তাদের প্রত্যেকের জন্য নিজস্ব একটি কোড আছে। এই কোড একটি বাটনের মাধ্যমে ফাইলে বসিয়ে দিলেই তার স্বাক্ষর হয়ে যায়। যাকে বলা হয়- ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর বা সংক্ষেপে ই-স্বাক্ষর। এ ছাড়া এ স্বাক্ষর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফাইলে মতামত এবং নোট দেওয়াসহ সংশোধনের কাজও সারতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে যদি কেউ কোনো মন্তব্য বা নোট দিতে চান তাহলে এই সিস্টেম থেকেই তা বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে। এ জন্য কর্মকর্তারা যেসব বাক্য বা শব্দ ব্যবহার করে থাকেন সিস্টেমের মধ্যে সেগুলো মাল্টিপল আকারে দেওয়া আছে। বাটন চেপে এর মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় বাক্যটি বেছে নিলে তা ফাইলে বসে যায়। সিস্টেমে দেওয়া নেই এমন মন্তব্য বা নোট দেওয়ারও সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তা ফাইলের মধ্যে নতুন করে লিখতে হয়। ম্যানুয়েল সিস্টেমের নিয়মানুযায়ী কাজ শেষে একটি ফাইল যার কাছে যায় এ ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। পার্থক্য হল এ ধরনের ফাইল লেনদেন হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয় কম্পিউটারে। এভাবে ফাইল নিষ্পত্তি করতে কোনো কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় না। যে কোনো সময় ফাইল প্রিন্ট করার সুযোগ তো থাকছেই।

ইতিমধ্যে ই-ফাইলে কাজ করার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এটুআই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন দফতর এবং দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কার্যালয়ে ই-ফাইলের কাজ শুরু হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সরকারের সব পর্যায়ে মানুয়্যাল ফাইলের পাশাপাশি ই-ফাইলের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ২৪টি জরুরি ফাইল সই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ই-স্বাক্ষরের মাধ্যমে এসব ফাইলে অনুমোদন দেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এভাবেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান এখন আরও সার্থক হতে যাচ্ছে। এগিয়ে চলছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়া ।