মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলাই ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য

কবির বিন আনোয়ার, প্রকল্প পরিচালক, এটুআই

264

kabirজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটুআই প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের রূপরেখা ঘোষণা করেন । নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ শুরু করার পর অনেকেই ঠাট্টা ও উপহাস করতেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাতে কর্ণপাত না করে মাটি ও মানুষের প্রতি দরদ আর আন্তরিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর প্রধানতম ভিশন ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জন্য অন্য সবার সঙ্গে এটুআই কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবতায় রূপ লাভ করেছে। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকার অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে কয়েক গুণ। বিনিয়োগ, নতুন নতুন শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন বাড়ার ফলে কর্মসংস্থান বেড়েছে। তিন কোটি দুঃস্থ মানুষকে নিরাপত্তা বলয় তথা বিভিন্ন ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো দারিদ্র্যমুক্ত, অশিক্ষা ও কুসংস্কারমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সুন্দর সমৃদ্ধ বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি দৃপ্ত পদক্ষেপে।

  • সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় ৫০০০ ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এ সেন্টারগুলোর সাহায্যে মানুষ খুব সহজে তার হাতের কাছে অনেক সেবা গ্রহণ করতে পারছে।
  • প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি অফিসের উইন্ডোসহ বিশ্বের সর্ববৃহৎ সরকারি ওয়েব পোর্টাল গড়ে তোলা হয়েছে।
  • শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কমপক্ষে একটি করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম গড়ে তোলা হয়েছে।
  • জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা ই-সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, অনলাইনে খতিয়ান (পর্চা) প্রদান, মোবাইল কোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, সেবাকুঞ্জ, রেলওয়ের মোবাইল টিকেটিং ও ই-টিকেটিং, অনলাইন হজ্জ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম শুরুর ফলে জনগণের ই-সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে।
  • স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে স্বল্প পরিসরে টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু ও কৃষকদের ফসলের নানা সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান “কৃষকের জানালা” নামক ডিজিটাল সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
  • এটুআইয়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় আরও নতুন নতুন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া ও নাগরিক সেবা সহজীকরণের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।

নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্য নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহে এক হাজারেরও বেশি ইনোভেশন টিম গঠিত হয়েছে, যাতে প্রায় পাঁচ হাজার অধিক কর্মকর্তা যুক্ত আছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এটুআই প্রোগ্রাম “Innovation Learning Journey” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সেক্টরে নাগরিক সেবা প্রদানের সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের উদ্ভাবন বিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন কার্যক্রমে ইনোভেশন টিমসমূহের সদস্যদের কার্যকর সম্পৃক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৩০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যাযে বর্তমানে ৫২১টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ১৩৭টি প্রকল্প ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সেবা জনগণের দোরগোঁড়ায় সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধিদপ্তরের মহাপরিচালকবৃন্দ, বিভাগীয় কমিশনারগণ, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তাগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এটুআই প্রকল্প সকল ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনগণকে অধিকতর জনবান্ধব সেবা উপহার দেওয়ার পাশাপাশি একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী জাতি গঠন করা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস।