শুদ্ধাচারে উদ্ভাবন দরকার

মোহাম্মদ শফিউল আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব

233

Untitled-copyনাগরিক সেবায় সারাদেশে উদ্ভাবনের চর্চা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে গত দুই বছরে সরকারের মধ্যে উদ্ভাবনী সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারা গড়ে উঠেছে। আমাদের মাঠের কর্মকর্তারা এর নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশানক এতে সহায়তা করেছে, সমন্বয় করেছে। আমরা মন্ত্রণালয় থেকেও সহায়তা করে যাচ্ছি। উদ্ভাবনী সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে তোলার কাজকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে।

শুদ্ধাচার এই উদ্ভাবনী সংস্কৃতিকে আরো শক্তিশালী করতে পারে। এজন্য জন্য শুদ্ধাচারে উদ্ভাবন দরকার। আপনারা শুদ্ধাচারের উপর উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করুন। ছোট ছোট দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করুন। দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় আমরা অনেক উত্তম চর্চা করি – যা শুদ্ধাচারের সাথে সম্পর্কিত। এইসকল উত্তম চর্চাকে আমরা সামনে আনতে চাই। তবে আবারো বলি, এই উত্তম চর্চা এবং শুদ্ধাচারের মূল লক্ষ্য হতে হবে নাগরিককে আরো ভালোভাবে সেবা প্রদান করা। সেবাগ্রহণে নাগরিকের সময়, ব্যয় আর ভোগান্তি কমিয়ে আনা। এভাবে সারাদেশে আমরা শুদ্ধাচারে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করে একটা ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে চাই। প্রতিযোগিতায় অবশ্যই স্বীকৃতির ব্যবস্থা থাকবে।

সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগের ইনোভেশন সার্কেলে গিয়ে আমি খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছি। সেখানে পুঠিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বলেছেন, আগে ভূমি অফিসে যেতে লোকজন ভয় পেত, এখন আর তারা ভয় পায় না। আমরা তো এমনটাই চাই। প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ, তাদের পয়সায় আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা চলি। তাহলে আমাদের কাছে জনগণ আসতে ভয় পাবে কেন?

রাজশাহীর পবা উপজেলার ভূমি অফিসে ‘মাটির মায়া’ মডেল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ‘আপনার এসিল্যান্ড’ নামে ব্যানার তৈরি করা হয়েছে। এই মাটির মায়ায় এসিল্যান্ড নিজে বসেন, সেবাগ্রহীতারা এসে বসেন, এসিল্যান্ড তাদের কথা মন দিয়ে শোনেন। সেখানে ফ্রন্টডেস্ক রয়েছে, সুবিন্যস্ত রেকর্ড রুম রয়েছে, হালনাগাদ রেজিস্ট্রার রয়েছে, নোটিশ বোর্ড রয়েছে, এতে এসিল্যান্ড কখন কোথায় আছেন তা লেখা থাকে। ফলে দালাল চলে গেছে। এই যে একটা জনবান্ধব পরিবেশ – এটা আমরা সারাদেশে দেখতে চাই। এই জন্য আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে দেশে মাটির মায়া মডেল রেপ্লিকেশন করার জন্য সকল জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশনা দিয়েছি। সারাদেশে এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আমি সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে এর অগ্রগতি ফেসবুকে জানতে চাই। ফেসবুকে শেয়ার করলে সারাদেশ জানতে পারবে। একইভাবে শুদ্ধাচারেও উদ্ভাবন দরকার।

আমি সব সময় জেলা প্রশাসকদেরকে জিজ্ঞাসা করি – জেলা প্রশাসনের নামে ফেসবুক পেজ রয়েছে কি না? সবাই বলেন আছে। কিন্তু তা কতটা কার্যকর? নাগরিক এই পেজে কতটা সম্পৃক্ত? আমরা কুষ্টিয়া ও বরিশাল জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নাগরিকের সমস্যা সমাধানের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারি। এভাবে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেও শুদ্ধাচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা যায়। এই আলোচনায় সকলের সক্রিয় সম্পৃক্ততা চাই।